অনুসন্ধান    

Logo

 

ব্র্যাক এর তথ্য সমূহ

গাভীপালনে স্বাবলম্বী গুলজান

কেস স্ট্যাডিঃ গাভীপালনে স্বাবলম্বী গুলজান

 

নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার পূর্ব খুটামারা গ্রামের হাজিপাড়া স্পটের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে গুলজান, চার ভাইবোনের মধ্যে সে তিন নম্বর মেয়ে।গুলজানের পিতামাতা অন্যের বাড়িতে কাজ করে অতিকষ্টে জীবনযাপন করত। দারিদ্রতার কারণে গুলজানও স্কুল পড়ুয়া বয়সে লেখাপড়া না করে অন্যের বাড়িতে কাজ করতো দুমুঠো ভাতের আশায়। পরের বাড়িতে কাজ করতে করতে মাত্র ১৪ বছর বয়সে গুলজানের বিয়ে হয় একই গ্রামের দরিদ্র ছেলে নছিমুদ্দিনের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর নছিমুদ্দিনের বাবা তাদের আলাদা করে দিলে শুরম্ন হয় আরো কষ্টের জীবন। গুলজান তার সংসার জীবনে পর্যায়ক্রমে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের মা হয়। অভাবের কারণে সে তাদের ছেলে মেয়েকে ঠিকমত ভরণ পোষন ও লেখাপড়া করাতে পারে নাই।গুলজান ও তার স্বামী অন্যের বাড়িতে কাজ করে অতিকষ্টে সংসার চালাতো। এমতাবস্থায় নীলফামারী জেলায় শুরম্ন হওয়া ব্রাকের অতিদরিদ্র কর্মসূচির মাধ্যমে ২৯/১০/২০০২ তারিখে গুলজানকে Specially Targeting the Ultra Poor (STUP) কর্মসূচির সদস্য করে গরম্নপালনের উপর ৩ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে গরম্নর ঘর তৈরীর জন্য

৩ টি টিন এবং ঘর তৈরীর পর ১টি বাছুর ও ১টি গাভী অনুদান হিসাবে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতি সপ্তাহে ৭০ টাকা হিসাবে সর্বোমোট ৪৩০০/=( চার হাজার তিনশত) টাকাও সহায়তা ভাতা প্রদান করা হয়। ব্র্যাক থেকে ২ টি গরম্ন পাওয়ার পর গুলজান অতি আনন্দ ও যত্নের সাথে গরম্ন ২টি লালন পালন করলে ১০ মাস পর গাভীটির একটি বকনা বাছুর হয় এবং ৩ মাস পর গাভীটি পূনরায় গর্ভবতী হয়। ১ বছর পর বকনা বাছুরটি ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকায় বিক্রি করে ধানের ব্যবসাকে আরও প্রসারিত করে তোলে। ২য় বার গাভীটির বাছুর হলে বিক্রি করে ৭০০০/- ( সাতহাজার) টাকা, ধানের ব্যবসার লাভ ও ব্র্যাক থেকে লোনের ৩০০০/- ( তিন হাজার) টাকাসহ মোট ১৭০০০/- টাকা ০৭ শতক জমি বন্ধক নেয়। ৩য় বারপালন করতে থাকে। কিছুদিন পর গাভীটি গর্ভবতী হয় এবং বাছুরটি বড় হতে থাকে। এর কিছুদিন পর সে বাছুরটি ৭০০০/- ( সাতহাজার ) টাকায় বিক্রি করে ধানের বসা শুরম্ন করে। ১০ মাস পর গাভীটির গাভীটির বাছুর হলে বিক্রি করে

৬৫০০/- ( ছয় হাজার পাঁচশত ) টাকা যা দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা

ও সংসারের খরচ চালায়। ৪র্থ বার গাভীর বাছুর হলে বিক্রি করে ৯০০০/ ( নয় হাজার) টাকা এবং ২য় ঋণ নেয় ৬০০০/- ( ছয় হাজার) টাকা , মোট ১৫০০০/- (পনের হাজার) টাকা দিয়ে ০৮ শতক জমি বন্ধক নেয়। ৫ম বার বাছুর হলে বিক্রি করে ১০০০০/-( দশ হাজার) টাকা এবং ৩য় লোন ৯০০০/ ( নয় হাজার) টাকা সহ মোট ১৯০০০ ( উনিস হাজার) টাকা দিয়ে ২ কাঠা ভিটেবাড়ী জমি ক্রয় করে। ৬ষ্ঠ বার গাভীটির বাছুর হলে তা ১৩০০০/- ( তের হাজার) টাকায় বিক্রি করে ভিটেমাটিতে ৪ চালার একটি টিনের ঘর তোলে , একটি ছাগল ও ৫টি মুরগী কিনে। এভাবে গুলজান সর্বোমোট (৭০০০+ ৫০০০+ ৭০০০+ ৬৫০০+৯০০০+১০০০০+ ১৩০০০) = ৫৭৫০০ টাকায় ৭টি গরম্ন বিক্রি করে। বর্তমানে গুলজানের ৪ টি গরম্ন, ১ টি ছাগল, ১২ টি মুরগী , ক্রয়কৃত ভিটেবাড়ী জমি ০২ শতক এবং ৩০ শতক জমি বন্ধক আছে। সে এখন নিচের ভিটেবাড়ী জমিতে ৪ চালা টিনের ঘরে স্বামী সমত্মান নিয়ে সুখে শামিত্মতে বসবাস করছে।  গুলজান গরম্নপালনকে তার জীবনের উন্নয়নের ধারা হিসাবে অব্যাহত রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে।গুলজান তার জীবনের উন্নতির জন্য ব্রাকের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।


 

Contact 1:
জনাব মো: আজহারুল ইসলাম
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)
ফোনঃ ০৫৫১-৬১৩৪৬
মোবাইল: ০১৭১৮-৬৩১২৪৩
islam15913azhar@gmail.com

Contact 2:
পূদম পুষ্প চাকমা
সহকারী কমিশনার (এনজিও শাখা)
ফোনঃ ০৫৫১৬১২৮০
acngonilphamari@gmail.com

Contact 3:
মোঃ ইস্রাফিল আলম (এনজিও শাখা) অফিস সহকারী
ফোনঃ ০১৭৩৪২৭৭৪৮২

খ ম রাশেদুল আরেফীন
এনজিও সমন্বয়কারী, নীলফামারী।

প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর
আরডি আরএস বাংলাদেশ, নীলফামারী।
মোবাইল নং- ০১৭৩০৩২৮০৪৪

NGO সমূহ